গ্যাস্ট্রিকের দিন গুলিতে প্রেম (বাস্তবধর্মী)

১।।

রাত বারোটা বাজতে চলেছে। ঘুমে ক্লান্তিতে চোখ জড়িয়ে আসছে জায়েদের। ওদিকে শরীরটাও ঠিক লাগছে না। বুকে একটা হাল্কা ব্যাথা করছে অনেক্ষন ধরে। ভাল লাগবেই বা কি করে। সেই সাত সকালে নাস্তা না করেই ক্লাসে গিয়েছে। সারাদিন ক্লাস ল্যাব করে সন্ধ্যায় হলে ফিরে আবার বেরিয়েছে টিউশানি করতে। সেখান থেকে হলে ফিরেছে রাত দশটায়। হলের ক্যান্টিন থেকে খেয়ে রুমে ফিরে আবার পড়তে বসেছে। ওদিকে মাথায় একের পর এক টেনশন। আর কদিন পরেই ফাইনাল পরীক্ষা, তারপরই হল ছাড়তে হবে। এই আকালের বাজারে শীঘ্রই কোন চাকরীর সম্ভাবনাও জায়েদ খুঁজে পাচ্ছে না। টেনশন শুধু এটুকু হলে কথা ছিল না, এর মাঝে আজ দুপুরে অর্পা বলে গেছে অর্পার বাবা নাকি তার জন্য ছেলে খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। ভেবে ভেবে কোন কিনারা না পেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে জায়েদ। বুকের ব্যাথাটা এখন আরও বেড়েছে মনে হচ্ছে। দুপুরে নিজের পকেটের শেষ টাকাটা দিয়ে অর্পাকে চটপটি খাইয়েছিল। সাথে নিজেও খেয়েছে। ওদিকে রাতে খেয়েছে হলের ক্যান্টিনের তেলে ভাসা তরকারি। নিশ্চয়ই পেটে গ্যাস হয়েছে। পড়ার টেবিলের ড্রয়ারটা খুলে হাতড়ে হাতড়ে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের পাতাটা বের করল সে। তাতে করে মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল তার। শুন্য মানিব্যাগের মত ঔষধের পাতাও প্রায় শেষ, মাত্র একটা ক্যাপসুল বাকি, ওদিকে মাস শেষ হতে আরও পাঁচদিন বাকি। জায়েদ মন খারাপ করে ক্যাপসুলটা আবার ড্রয়ারে রেখে দিল। এইমাসে আর ঔষধ কিনতে পারবে না সে।

২।।

এমন সময় প্যা পো করে মোবাইলটা বেজে উঠল। হাতে নিয়ে জায়েদ দেখল অর্পা কল করেছে। সাধারনত অর্পা রাতে এসময় কল দেয় না, কারন সেও পাশের মেয়েদের হলে থাকে, পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টে পড়ে, সারাদিনই দেখা হয়। জায়েদের মনটা কেমন জানি করে উঠল। ফোন ধরতেই অর্পা বলল-আমি আর পারছি না জায়েদ। প্লিজ হেল্প মি…ভয়ে জায়েদের কণ্ঠ দিয়ে শব্দ বের হতে চায় না। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করে-কি হয়েছে অর্পা ?জবাবে অর্পার বেদনা মিশ্রিত কণ্ঠ শোনা গেল-দুপুরে চটপটি খেয়েছিলাম না, এখন প্রচন্ড গ্যাস হয়েছে। রুমে ঔষধ নেই, আর এত রাতে হলের বাহিরেও যাওয়া সম্ভব না, কি করব আমি ?? প্লিজ হেল্পজায়েদের দেহে যেন প্রান ফিরে এল। অর্পাকে বলল – কিচ্ছু চিন্তা করোনা, আমি এখনই তোমার হলের গেটে আসছি।

৩।।

সেদিনের সেই রাতের পর পাঁচটা বছর কেটে গেছে। জায়েদ সেদিন অর্পাকে ক্যাপসুলটা ঠিকই দিয়ে এসেছিল। আর শুধু সেদিনই না জায়েদ এরপর আরও বহুদিন নিজের পকেটের টাকায় অর্পাকে চটপটি ফুসকা আর গ্যাসের ঔষধ খাইয়ে গেছে। কিন্তু শেষটায় আর কিছুতেই পেরে উঠল না। আকালের বাজারে দুর্নীতিবাজ আর দালালের ভীড়ে হবে হবে করেও জায়েদের কোন চাকরী এখনও হল না। তার চাকরীর বয়স প্রায় শেষের দিকে। ওদিকে অর্পার খুব সুন্দর বিয়ে হয়েছে। তার জামাই তাকে নিয়ে গেছে আমেরিকা। ফেসবুকে অর্পার সুন্দর সুন্দর ছবি দেখে মাঝে মাঝেই বুকটা জ্বালা করে ওঠে জায়েদের। কিন্তু কেউ তার ব্যাথাটা বুঝতে চায় না, সবাই বলে “গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা”